বাগান স্ক্যানার: মোহনবাগানের মাঝমাঠে মিগুয়েল ফিগুয়েরা—শক্তি, দুর্বলতা ও ট্যাকটিক্যাল অ্যানালিসিস

ইতিমধ্যেই কলকাতা ময়দানে সাড়া জাগানো—গত মরশুমে ইস্টবেঙ্গলের আইএসএল জয়ের মূল কান্ডারী মিগুয়েল ফিগুয়েরাকে সবুজ-মেরুন জার্সি পরিয়েছে মোহনবাগান সুপারজায়েন্ট ম্যানেজমেন্ট। দলবদলের মরশুমে মেগা এই সাইনিং বাগান সমর্থকদের মধ্যে বিশেষ আগ্রহের সৃষ্টি করেছে।
এবার এক নজরে দেখে নেওয়া যাক ট্যাকটিক্যালি কেমন হলো এই সাইনিং:
- দ্য নম্বর ১০: প্রথমে গ্রেগ স্টুয়ার্টের চোট সমস্যা এবং পরবর্তীকালে ম্যানেজমেন্টের অবৈজ্ঞানিক সাইনিং রবসন রবিনহোর ভারতীয় ফুটবলে চূড়ান্তভাবে পর্যুদস্ত হওয়া, বিগত দু’বছর ধরে মোহনবাগানকে অ্যাটাকিং মিডফিল্ড পজিশনে প্রবলভাবে ভুগিয়েছে। যার ফলস্বরূপ ম্যাচ প্রতি এক্সপেকটেড অ্যাসিস্ট খুবই কম ছিল এবং জেমি ম্যাকলারেন বাগান জার্সিতে আশানুরূপ ফুল ফোটাতে পারছেন না। মিগুয়েল আসায় এই নিরিখে বাগান প্রভূত উন্নতি করবে এমনটা আশা করা যায়। গত মরশুমে তিনি মোট ৩.২২ এক্সপেকটেড অ্যাসিস্ট এবং ১১ ম্যাচে মোট ১২টি বড় সুযোগ তৈরি করেছেন, যেগুলি বেশ সমীহ করার মতো স্ট্যাটস। সর্বমোট তিনি ৫টি অ্যাসিস্ট ও ২টি গোল করে মরশুম শেষ করেন এবং গোল্ডেন বল জিতে নেন।
- বয়স: মিগুয়েলের বয়স মাত্র ২৬। সদ্য আইএসএল গোল্ডেন বল জিতে তিনি তাঁর ক্যারিয়ারের মধ্যগগনে মোহনবাগানে সই করেছেন। গত মরশুমের মতো যদি তিনি ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে পারেন, তাহলে মোহন জনতা টানা বেশ কয়েক বছর ‘মিগুয়েল ম্যাজিক’ উপভোগ করতে পারবে। এছাড়া বয়সজনিত চোটের আশঙ্কাও কম, যা বাগান জনতাকে স্বস্তি দেবে।
নেগেটিভস (নেতিবাচক দিক)
- দুর্বল ফিনিশিং: মনমুগ্ধকর অ্যাসিস্টে সমর্থকদের মন জয় করলেও গত সিজনে মিগুয়েলের ফিনিশিং নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। গোটা মরশুমে মোট ৪৫টা গোলমুখী শট নিলেও মাত্র ১৩টি শট অন টার্গেট এবং ২.০৯ এক্সপেকটেড গোল থাকা সত্ত্বেও গোটা সিজনে মাত্র ২টি গোল তাঁর দুর্বল ফিনিশিংয়ের বয়ান দেয়।
- অফ দ্য বল খেলা: মিগুয়েল উইথ দ্য বল অত্যন্ত দক্ষ হলেও, অফ দ্য বল তাঁর ওয়ার্ক রেট গত মরশুমে ইস্টবেঙ্গলকে বারবার ভুগিয়েছে। ট্রানজিশনে নিচে নেমে রক্ষণে সাহায্য করা এবং অফ দ্য বল প্রেসিং স্ট্রাকচার বজায় রাখার ক্ষেত্রে তাঁর খামতি দেখা গেছে, যা মোহনবাগান থিঙ্ক-ট্যাঙ্ককে চিন্তায় রাখবে।
- পরিপক্কতার অভাব: দৃষ্টিনন্দন খেলার মাধ্যমে অনেক বিশেষণ কুড়িয়ে নিলেও খেলোয়াড়ি পরিপক্কতার অভাব তাঁর মধ্যে স্পষ্ট দেখা গেছে। বহু ম্যাচ চলাকালীন দেখা গেছে মিগুয়েলকে মেজাজ হারাতে। যার ফলে মাত্র ১১ ম্যাচ শুরু করে ৩টি হলুদ কার্ড এবং ১টি রেড কার্ড তাঁকে দেখতে হয়েছে
অন্তিম রায়
মাঝমাঠ থেকে ডিফেন্স চেরা পাস হোক, দূর থেকে ওভার দ্য টপ লং বল খেলার মাধ্যমে সতীর্থ উইঙ্গারকে অনায়াসে খুঁজে নেওয়া হোক, কিংবা সাম্বার তালে ড্রিবল করে একাধিক বিপক্ষের খেলোয়াড়কে পিছনে ফেলে দেওয়া—মোহন জনতার চোখে মাঝমাঠে বাঁ-পায়ের জাদুকর হয়ে ওঠার সমস্ত রসদ মিগুয়েলের কাছে রয়েছে।
কিন্তু মেজাজ হারানো, ফিনিশিংয়ে দুর্বলতা এবং অফ দ্য বল ওয়ার্ক রেটের বিষয়ে পরবর্তী মোহনবাগান কোচের সাথে তাঁকে প্রভূতভাবে কাজ করতে হবে। তবেই মিগুয়েল ফিগুয়েরা মোহনবাগান সমর্থক তথা ম্যানেজমেন্টের নয়নের মণি হয়ে উঠতে পারবেন।